Monday, October 10, 2016

ভাষার আন্তর্জাতিক শ্রেণী সংগ্রাম

ভাষার ক্রমবর্ধমান কদর্য্যায়ন একটি অস্বাভাবিক পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প।সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যে কোনো জাতি   তার ভাষাকে আরো পরিশীলিত করে, এটাই তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া , এই প্রক্রিয়াতে উচ্চারণ থেকে শব্দচয়ন ও প্রয়োগ পুরোটাই একদিকে যেমন সহজ ও স্বাবলীল হয় , পাশাপাশি আবার পরিশীলিত ও হয়.. অশ্রাব্য বা অকথ্য বা অপাঠ্য হয় না, যখন সেটা হচ্ছে বুঝতে হবে কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য নিহিত আছে. অন্য ভাষা থেকে স্বাবলীল ভাবেই শব্দ নিজের ভাষাতে অবাধে ঢোকে , কিছু টিঁকে যায় , কিছু অল্প কয়েক বৎসর পরে মুছে যায়।  অবিমির্শ আমদানি ভাষার ষষ্ঠী পুজো বা অশান্তিশস্ত্যয়ন  করে ছাড়ে।

ভাষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক dielectics হচ্ছে যারা ভাষার একদেশীকরণের বা একজাতিকরণের  জন্য জমিন আসমান উল্লম্ফন করেন, তারাই কিন্তু ভাষার জাতগত ধর্মগত পৃথকীকরণ করেন -  ভাষার 'অস্মিতার'  অছিলায়।   এই রোমান্টিক মনোগত অসামাজিক অসামূহিক ব্যক্তি-চর্যা ভাষা কে বিভাজিত করে , এবং করে অবশেষে এক অদ্ভুত শ্রেণী-বিভাজনের সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে , এরই চাপে ভাষার কিছু দরকচা মার্কা উপভাষা তৈরী হয় নাগরিক পরিমণ্ডলে , যা পরে কৃষিজ উৎপাদনের অঞ্চল গুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।  ফিরকাপরোস্তি বা বিচ্ছিন্নতাবাদ ভাষার মাধ্যমে জাতি গঠন কে উচ্চবিত্ত উচ্চবৃত্ত নির্ধারিত ধাঁচে ফেলে ভাষার স্বাভাবিক প্রশ্বাস কে রুদ্ধ করে. ঠিক তখনি উচ্ছকটির মানুষরা বিদেশী ভাষার অনুসারী হয় আর সাধারণ মানুষের ভাষাকে ব্রাত্য চিহ্নিত করা হয়.. ভাষাকে  জাতিগত,জাতগত, জেলাগত , অঞ্চলগত এনং সর্বশেষে শ্রেণীগত বিভাজনের মধ্যে দিয়ে তার সার্বিক সামূহিক মান্যতাপ্রাপ্তির পথ থেকে সরিয়ে হাজার একটা খন্ড রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়. এতে ভাষার সংখ্যাগত শক্তি এবং ভাষাব্যবহার কারীদের মধ্যেকার intra-solidarity ক্ষতিগ্রস্ত হয়. ভাষা আন্তর্জাতিক বা অন্তৰাষ্ট্রীক প্রেক্ষিতে গুরুত্ব হারাতে থাকে।  ভাষা স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে তার নিজের বিস্তারের দিকেই এগোয় [কলকাতার ভোজপুরি দের শব্দচয়নে ক্রমবর্ধমান খাস বাংলা শব্দ ব্যবহারেই তা স্পষ্ট ] কিন্তু পাশের দেশের অর্থাৎ পাশের দেশের দশের সঙ্গে শত্রুতা বাড়িয়ে অস্মিতা কে সংজ্ঞায়িত করার প্রচেষ্টায় ভাষার পিন্ডি চটকানো ভাষাকে যে শুধু নিচের দিকে নিয়ে যায় তাই নয়, সাধারণ ভাবে শিক্ষার মানের অবনমন ঘটিয়ে বিদেশী ভাষাকেই মাথায় চড়ানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়.

'ভাষাকে ধর্ম ও রাষ্ট্রীয় বিভাজনের কাশতি বানাতে হবে' - এটা জাতীয়তাবাদের প্রকল্প, যে জাতীয়তাবাদ প্রকাশ্যে ভাষিক জাতীয়তাবাদ, প্রচ্ছন্নে ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ।  জাতীয়তাবাদ সব ক্ষেত্রেই মানুষে মানুষের বিভাজনের বাহন।  পাশের দেশের কিছু বুদ্ধিজীবি যারা সাধারণত বিদেশে অভিনিবিষ্ট এবং প্রতীচ্যের নাগরিকত্ব 'হাসিল' করেছেন , তাঁরা দেশের প্রতি ' প্রেম' দর্শানোর বহিরঙ্গে এই বিভাজন সৃষ্টি করে থাকেন , বাইরে বসে বা বাইরের ' খেয়ে' ঘরের বিভাজন অর্থনৈতিক , নৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক আধিপত্য বা hegemony প্রতিষ্ঠার  কপট চাল, দেশে থাকলে ঐক্যের পরিসর বাড়ানোর একটা চাপ বা তাগিদ থাকে, বাইরে থাকলে বা বাইরের খেলে সে  দায়িত্বর অর্গলমুক্ত হওয়া যায়. তাই বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের সানুকূল্যে বা বিদেশী অর্থসাহায্য প্রাপ্ত NGO র মাধুকরী র দৌলতে এই কাজ ভালোই চলে আবার বুদ্ধিজীবী তকমাও জোটে।দেশের মানুষ তখন হাঁ করে ভাবেন 'আহা বাইরে থেকেও দেশের প্রতি কি নাড়ীর টান ' .  NGO র আশরাফি বড়োই 'স্বস্তিদায়ক' , দেশ বা বিদেশ যেখানেই অধিষ্ঠান হোক না কেন , একটা পানির ওপর রাজবেশের মতন এস্টাইলে থাকা যায়.

আমাদের এই বাংলায় ও এই প্রজাতির দু এক পিস এর দেখা মেলে,এরা আবার ওপারের ফিরকাপরোস্তিদের অনুগামী , সহচর এবং পৃষ্টপোষক , তারা পরস্পরের অনুমোদনে  এবং অনুপোষণে দেশ দুনিয়ায় জ্ঞান গম্ভীর বক্তিমে করে বেড়ান , বাংলার নবারুনী ভাষায় ব্যক্ত না করেও বলা যায় , উঞ্ছবৃত্তির মাধুকরীতে মাননীয় হবার এক বহু প্রচলিত সস্তাসুন্দর যাপন ক্রিয়া। তাঁরা ভাষার পায়ে  লাগিয়ে দিতে চান স্বাভাবিক চরাচর রুদ্ধ করার অর্গল। তারা একদেশিক একভাষীক ইউরোপীয় মডেলের সাষ্টাঙ্গে  সেজদা প্রদানকারী [আদাকারী বলা পারে]. তারা  বলে থাকেন ভাষাগোষ্ঠীকে "মডার্ন" [এই শব্দটা বাংলায় বলেন না] রাষ্ট্র দিতে হবে, [কিন্তু চাকমা, চাঙমা  মেইতেই , সাঁওতালি কে সেই অধিকার দেওয়া চলবে না , যেমন  চলবে না কামতাপুরি বা সান্দ্রি  কে রাষ্ট্রিক স্বীকৃতি -কারণ ওগুলো ছোটলোকদের ভাষা যে !]  এটা স্পষ্ট হয় এই বিচ্ছিন্নতা আর রাষ্ট্রের রোমান্টিকতা একটা শ্রেণী নিষ্পেষণ এর হাতিয়ার , মধ্যবিত্তের আরো উচ্চবিত্তের মুত্সুদ্দিযায়ন এর প্রচেষ্টা ]

NGO দের দুটো ধারা অর্থাৎ ইসলামী NGO আর মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় বা ফাউন্ডেশন এর NGO এখন মেড়ো -বানিয়া NGO গুলোর হিন্দুত্ববাদী রূপের বিরুদ্ধে কুস্তি করবার জন্যে লাল-সবুজ বাং জার্সি  চাপিয়ে রিং এ নেমে পড়েছে , আমরা জার্সি র রঙে খিলাড়ি চিনছি , এদের মূল লক্ষ অন্য সেমিফাইনাল থেকে যেন আসল লাল জার্সি যেন ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছুতে না পারে, এই মর্মে  দোস্তি।

ভাষিক জাতীয়তাবাদ এর নামে বাংলাদেশ হারালো বাংলা-সংস্কৃত -ফার্সি এ এক অমোঘ সংশ্লেষ , আমরা  বাংলাপ্রদেশীরা হারালাম বাংলা-পূরবী-মৈথিলী-অহমিয়া-ওড়িয়ার সংশ্লেষের এক সুবর্ণ সুযোগ , রাষ্ট্রের পোষণে লাফাঙ্গা বলিউডি মাওয়ালী মেরকু-টেরেকু মার্কা হিন্দি কে আমরা নিখিল ভারতীয় ভাষা হিসেবে ঠাহর করতে শুরু করলাম কারণ আমাদের সবচেয়ে সফরী বা মোবাইল অংশটি সাহিত্য-সংস্কৃতি বধীর একটি পয়সাওয়ালা প্রজাতি। ওদেশে যেমন সবচেয়ে অশিক্ষিত উপজাতিটি বিদেশে menial job এর দৌলতে বিদেশী মুদ্রায় পোষ্টিত আমাদের এখানে চাকুরীর পয়সা গর্বে এক একটা পোষ্টিত nincompoop [এর ভালো প্রতিশব্দ নেই] উপজাতি - তারা সব IT তে কাজ করেন।

যাই হোক ভারতে ভাষার তরলীকরণ চলছে হিন্দি-হিন্দুত্বের চাপে আর তার বিপরীত প্রক্রিয়া চলছে পাশের দেশে একদেশীকরণ আর একিজাতীকরণ বা একইধর্মীয়করণের  ইসলামী NGO    এর মাধ্যমে। ফ্রান্সে যখন francais থেকে froncophone থেকে froncophile  কে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে [সুমনা সিনহা র বিখ্যাত উক্তি - ফ=ফরাসি ভাষা আমার মাতৃভূমি [মাতৃভাষা নয়] ] তখন আমরা খন্ড থেকে আরো খন্ডিয়করণের পথে এগোচ্ছি - এটাই ভাষা ও সংস্কৃতির মুত্সুদ্দিযায়ন।  ভাষার বিস্তৃতায়ন একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী শ্রেণী সংগ্রাম।  

Laws of Present day warfare

Present day warfare has three common rules:
1.    The military part of the war is reducing and the non-military part is fast increasing.
a.      War is now more of an ideological and political game than anything else
2.    The war although apparently ‘directs’ against a foreign nation-state, is actually waged against the people of the same country.
a.     Economically war creates a big sub-sector that sinks all the surpluses from all other sectors and then drowns the wealth without any extended reproduction.
b.    Socially it creates a hysteric atmosphere of hatred, angst, violence and celebrates deaths of ‘others’.
c.     War ruins the development of balanced production in every commodity and consumer sector excepting for those that are directly feeding the war preparation.
                                                             i.      War invariably creates a very high inflation of commodities and daily consumables and robs the people of their saving potential and disposable income thus lowering down the economic development.
                                                          ii.      War reduces the real wage rate of the workers and toilers within the economy.
                                                       iii.      War creates a high cost and high priced economy but the producers and consumers loose the grip whatever they had.
d.    War creates a fractured social psychology and leaves the society as a strife tormented and violent space.
3.    War is now long-drawn and protracted… This phenomenon stabilizes the reign of the ruling party however unpopular they could be. After every physical completion the political equation within a nation state change, but in case of a low-intensity protracted war the most unpopular ruling section gains justification and sustenance.

These are the determining rules that govern other sub-rules.

Friday, October 7, 2016

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে , এবং পরিতাপের বিষয় হলেও সত্যি যে ভারত রাষ্ট্র যুদ্ধের এই রাউন্ডে অনেকটাই পিছিয়ে আছে  এই যুদ্ধটা মধ্যে সামরিক অংশের বদলে অসামরিক অংশটাই বেশি  এখনো পর্যন্ত যে চারটি ঘোষিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছিল তার মধ্যে ১৯৭১ কার্গিল যুদ্ধে ভারত রাষ্ট্র প্রমাণিত ভাবে জয়ী হয়েছিল কারণ দুটো ক্ষেত্রেই অসামরিক স্তরে ভারত অনেক আগেই যুদ্ধে জিতে ছিল. কার্গিল যুদ্ধে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার কার্গিল উপত্যকায় শিয়া দের সুন্নিদের সঙ্গে তব্দিলি করে যুদ্ধে জিতেই গিয়েছিলো , ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ্ পাকিস্তানী পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এখন তারাই ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে  ভারত সরকারের নির্বুদ্ধিতা , রাজনৈতিক অবিমিরশকারীতা জন্যে অন্ধ সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে এবং শুধুমাত্র বিষয় এর গভীরে যাওয়ার শিক্ষা আর ধৈর্য্যের অভাবে এবং কিছু সম্পূর্ণ অশিক্ষিত নেতৃত্বের সবজান্তা হামবড়া ভাবের অন্নে গ্রাউন্ড রিয়ালিটি ছোট খাটো বিষয়গুলোকে ধরতে না পারার জন্যে ভারত সরকার সারা পৃথিবীতে নিজেকে হাস্যকর জায়গায় নিয়ে গেছে  এই যুদ্ধ বড়ো ভয়ঙ্কর , দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক জ্ঞান-প্রয়োজনী , যার ক্ষমতা বা অওকাত বর্তমান সরকারি দলটির নেই  সব ব্যবসায়ী বানিয়া নয়, বানিয়া একটা বিশেষ প্রজাতির ব্যবসায়ী , যারা ব্যবসা নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যবসাটার খুঁটি নাতি বোঝে না , এটা সরাসরি ভারতের জাতিবাদের ফল , যা আজ পর্যন্ত কোনো সুফল কাউকেই দিতে পারে নি , এমনকি নিজেদেরও নয়. তাই প্রতীচ্যের ব্যবসায়ী দেশ জাতিগুলোর  মতো বানিয়ারা কোনো ইতিবাচক পরিবেশ বা ইতিহাস তৈরী করতে পারলো না

পাকিস্তান একটি দীর্ঘদিনের ব্রাত্য,ঘৃণিত অপদার্থ সামন্তী বা ফিউডাল দেশ , সামরিক বাহিনী সে দেশের সব কিছুরই মালিক , তারা সব কিছু হর্তাকর্তা , শিয়ালকোট এর   
ফুটবল তৈরির অনবদ্য লাইন অফ বিসনেস ছাড়া আর করাচির ছোট পুঁজি দোকানদারি ছাড়া তাদের কিছুই নেই  আর ঠিক তাই পাকিস্তান এতদিন যুদ্ধ গুলোতে হেরে আসছিলো  এবার আমরা প্রমান করলাম আমরা আরো কত বোকা আর অপদার্থ 

এই যুদ্ধে ওপরে ওপরে বাংলাদেশ নাকি ভারতের পক্ষে , বহুদিন ধরেই তারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত , এটা আবার অন্য পদ্ধতি তে , নিজের নাক আর পা কেটে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধে নামা  তিনদিকে ভারতের উপস্থিতি নিজেদের চামড়া বাঁচাতে isolation এর পথ নিয়েছিল. নিজেদের দেশে শিক্ষা , স্বাস্থ , ইন্ডাস্ট্রি একেবারে শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসা কে কিন্তু তারা একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়েছিল  জিয়াউর রহমানের  থেকেই বাংলাদেশ তার নিবাসী দের প্রস্তুত করতে থাকলো বাইরের দেশগুলোতে menial জব করবার জন্যে , তারা এটা করলো শূন্য লগ্নি তে বা শুন্য সরকারি খরচে unilateral transfer এর ওপর নির্ভর করে দেশের ফরেন কারেন্সী রিসার্ভ বাড়িয়ে দেশ চালানোর তস্কৰী পরিকল্পনায  এই তস্করী নিজের দেশের মানুষদের বিরুদ্ধে , বিশ্ব অর্থনীতি অন্তর্জাল বা নেটওয়ার্ক ব্রাত্য তাড়িত হবার পরে সৌদি ব্যাংকগুলোর বদান্যতায় একটা লুম্পেন বুর্জোয়া শ্রেণী বাংলাদেশের শাসকরা আর সে দেশের সামরিক বাহিনী নিজেদের অর্থনীতি কে ওহাবী রাজন্যকুল এর কাছে সংপে দিলো, মনে করলো ওই চুরি করা সম্পত্তি দিয়ে তারা পশ্চিমে আনন্দে থাকবে এই অংশের ভারত বিরোধিতা আসলে পশ্চিমবাংলার বিরোধিতার জন্যে , তাদের সাম্প্রদায়িক শক্তি গুলো [যার মধ্যে আওয়ামী লীগও অনেকটাই পরে ] বিজেপি সঙ্গে ষড় দড়  খালেদা বিবি তো বিজেপি ছাড়া কতাই কন না 
ভাষার হিন্দি আয়ন [উর্দু আয়ন , ফার্সি আয়ন বা আরবি আয়ন নয় , কারণ সেটা করতে গেলে পরিশীলনের প্রয়োজন ] একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা যেটা তারা ১৯৭৫ থেকে শুরু করেছে , ভাষার কদরজায়ন তাদের শিক্ষার ইচ্ছাকৃত অবনমনের অংশ  এটা তারা করেছিলো  যাতে শিক্ষিত অংশ ভারতে বা এই বাংলায় না আসে , তাদের দেশে এমনকি এলিট দের মধ্যেও ইংরিজির অবনমন করা হছ্যে [ বা অশ্রাব্য, অপাঠ্য ইংরিজি ] পড়ানো একটা রাজনৈতিক পরিকল্পনা, সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেখানে অন্য বিদেশী ভাষার কোনো প্রচলনই নেই , তাদের দেশ থেকে যারা menial জব করতে ইংরিজি ভাষা ছাড়া অন্য দেশ গুলোতেও যায় সেখান থেকে সেই ভাষা শিখে আসা মানুষের সংখ্যা নগন্য এমনকি ভালো করে আরাবী টাও শেখে না. এই পর্যায়ে রেখে দিলে তারা ভারতে পড়াশুনো করবে না [আগে অনেক সংখ্যাতেই আসতো ] এবং বিদেশে পড়াশুনো করবার জন্যে না গিয়ে menial জব করে দ্রুত বিদেশী মুদ্রা পাঠাবে ].আর এই প্রক্রিয়ায় ভারত বিরোধিতার একটা পরিবেশ বজায় রাখতে রাখতে পারবে , শুধু ভারতের বানিয়া কর্পোরেটদের হাতে থাকা স্বাস্থ সেক্টরে পয়সা গুলোকে ফেলার বিজেপি চক্রান্তে তারা সামিল  একটা মুমূর্ষু অর্থনীতি আর তস্কর মধ্যবিত্ত সমাজ পড়শী দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কারণ শুধুমাত্র অনুপ্রবেশ রুখতেই পড়শীর ত্রাহি ত্রাহি রব উঠবে , তারা ভারতে অনুপ্রবেশ করাতে চায় না, 'অনুপ্রবেশ রেখার ' বিশাল খরচ টাকে চাপিয়ে দিতে চায় , এটা অমোঘ যুদ্ধাস্ত্র  পাকিস্তানের 'শান্তি আমন ' এর যুদ্ধাস্ত্র চাইতে এটা অনেক ভয়ঙ্কর  এটাই সৌদি-মার্কিন পরিকল্পনা , করাচ্ছে বাংলাদেশ এর ঘরে বন্দুক রেখে , হুঁকোবরদার তো!!!!.

পাকিস্তান বাংলাদেশের এই যুগপৎ যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে ভারতের যে বুদ্ধি এবং সেনসিটিভিটি প্রয়োজন ছিল সেটা উত্তর ভারতের মাথা মোটা সাম্প্রদায়িক শক্তির আধার বিজেপি নেই , ব্রাহ্মণ্যবাদের নির্বুদ্ধিতা আমাদের এই জায়গাতে এনে ফেলেছে , আমরা হারছি.
জাতীয়তাবাদ যে কোনো দেশকেই উগ্র isolation এর  দিকে ঠেলে নিয়ে যাবেই  brexit এর পর ব্রিটেন কে দেখলেই বোঝা যায়  জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশ কে জাহিলিয়াত বানিয়ে ছেড়েছে  পাকিস্তান তার এলিট অংশকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় বয়োসন্ধির সময় থেকেই তাদের দেশের সামন্তী সম্পদের ওপর ভিত্তি করে  পশ্চিমে পাকিস্তানিদের অভিবাসন অনেক সহজলভ্য  ভারত সবের থেকে আলাদা থেকে কিছুটা দাঁড়াচ্ছিল এখন সে বিশ্বের মধ্যে এমনি দেশ যেখানে সবচেয়ে বেশি গরিবের বাস , আবার এই দেশেই বাস করে বিশ্বের সবচেয়ে বড়লোকদের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া কিছু বানিয়া  জাতীয়তাবাদ আর হিন্দুত্ববাদ এখানেই আমাদের পৌঁছে দিয়েছে  জাতীয়তাবাদ ভারতের মানুষের জাতীয় অস্মিতাকেই ধুলোয় মিটিয়ে দিয়েছে .. ভারতে এই মাণুবাদী জাতীয়তা ভারতের সবচেয়ে বড়ো জাতীয়তা বিরোধী দর্শন  রবীন্দ্রনাথের কাছে জাতীয় অস্মিতা ছিল আন্তর্জাতীয়তার একটা ফলিত বিশেষ রূপ.. এই dialectic টাই আজ হাজার দৃষ্টিতেই প্রমাণিত..  .
আমাদের হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ আমাদের যুদ্ধেও হারিয়ে দিচ্ছে,,,,,, আমরা একটা হেরো [loser ] দেশের নাগরিকে পরিণত হচ্ছি

যা দেবী সর্বলোকেষু সর্বকালেষু তস্কররূপেণ সংস্থিতা / মেরোস্তস্যৈ বানিয়াস্তস্যৈ মনুস্তস্যৈ ঘৃনায় ঘৃণ্য !

Saturday, September 17, 2016



মাখনের মতো রাস্তা সব, যতদূর  যায় , দিক্চক্রবাল  পার করে দিয়ে রাস্তার দু ধার একটি বিন্দু তে মাইল গেলো দূরে চাঁদের ঠিক নিচে.আহা কি আনন্দ , কি সুন্দর! পৃথিবী তার সমস্ত কোলাহল থামিয়ে এখানে টুরিস্ট দের ডাকছেন , আসুন ওড়িশায় আসুন , প্রকৃতির কোলে! ধু ধু বালুকা বেলা, ছাড়া ছাড়া জঙ্গল , শান্ত সমাহত , পারবেন আপনি পরিজন নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঊষর মরুভূমি থেকে জঙ্গলের ভেতরে , মাঝে মাঝে কিছু হাতি আপনার  ঘাড় ঘুড়িয়ে আবার নিজের মতো নিজের পথে চলে যেতে পারে ওড়িশায় না এলে জীবন অতৃপ্ত, থেকে যায়. আপনি কি জানেন ? ওড়িশায় একটা  পর্বত আছে যেখানে বরফ পড়ে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে. ওড়িশায় আছে অপূর্ব গেস্ট হাউস, যেখানে নরম মোলায়েম আলো তে আপনি চাঁদের নজরের নিচে দারুন রোমান্টিক সন্ধ্যে অতিবাহিত করতে পারেন? হ্যাঁ এটা জগন্নাথ দেবের নিজের  দেশ,এখানে মানুষরা হাস্যমুখ , সব সময়ে আপনাকে অভ্যর্থনা  করছেন.ওড়িশায় পাবেন মহুয়া, কেয়া ফুল, পাবেন বেহুঁশ হওয়ার সমস্ত উপকরণ ওড়িশা রোমান্স এর লীলাক্ষেত্র

এটাই ওড়িশা পর্যটন বিভাগের মুখবন্ধ , যার প্রত্যেকটি ছোট্র সত্যি প্রত্যেকটি জুমলা আরো অনেক মহিমান্বিত আরো অনেক সুন্দর হতে পারতো , বাস্তব তা আরো অনেক গুন্ নয়নাভিরাম অনেক রোমান্টিক ওড়িশার প্রকৃতির কোনো তুলনা দেশে তো  নেই  আসুন ওড়িশায় যাই  প্রিয়জন কে আরো নিবিড় ভালোবাসার ডোরে আলিঙ্গনের জন্যে
ওপরের ছবিটা এখন সারা পৃথিবীতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে গেছে , এটাও কিন্তু সেই স্বর্গের আর একটা ছবি. ওড়িশা   লুকিয়ে আছে আর এক ওড়িশা , মানুষের ওড়িশা , এই সেই আরো বাস্তব ওড়িশার মানুষের মুখ , স্বামী  স্ত্রীকে কাঁধে করে ১২ কিলোমিটার হাঁটলেন সেই মাখনের মতো পথ ধরে. পথ গুলো জনপথ নয় দু ধারে মানুষের বা জনের পদ পড়ে না, সেখানে আদিবাসী মানুষ মৃতদেহ নিয়ে হেঁটে থাকেন মিলের পর মাইল , 'বাড়িতে' সমাহিত করবার আশায়, পাশে পাশে চলেছে তার এক রত্তি মেয়ে ওই  তপ্ত ঊষর  মরুভূমি রাস্তা দিয়ে  পায়ে.. আদিবাসীর চোখের জল এর মূল্য এই ওড়িশায় বা এই ভারতে কিছুই থাকতে নেই , বোকা মেয়েটা সেটা বোঝে না , বোকা তো ! মায়ের মৃত্যুতে কাঁদতে শিখেছে , ভারতের কর্পোরেট উন্নতির এই মহাযজ্ঞে তার মায়ের মতো তুচ্ছ জীবনের মূল্য যে থাকতে নেই , বোকা মেয়েটা সেটা বোঝে না. জগৎসভায় ওড়িশার এখন বিরাট নামডাক, যেমন পর্যটনে তেমন কর্পোরেট ভুবনেশ্বর শহরে , ওটা যে ভুবনের ঈশ্বরের বাটিকা , বোকা মেয়েরা অবুঝ হলে কি আর বিলেতে শিক্ষাপ্রাপ্ত ছোট ইংরিজি বলা  নবীন পট্টনায়ক মেয়েটার দিকে নজর দেবে? বোকাটা বোঝে না, বাবা বোঝেন , মৃত স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে নিজেই পাথর , পাথর এর মতো মৃতদেহ নিয়ে অশ্রুরোহিত স্বামী হেঁটে চলেছেন , যেমন দৌড়িয়েছিলেন সঞ্জীব পুরোহিত , চাকরির আশায় , মুখ থুবড়ে পরে  গেলেন.ব্যস লোভের শেষ. আদিবাসীদের আবার মন? থাকতে আছে নাকি ? ব্রাহ্মণ নবীন আর তার ব্রাহ্মণ জেলাশাসক তো অবাক , সব আবার হয় নাকিছুঁড়ে ফেলে দিলো না কেন? ন্যাকামির অন্ত নেই ... আদিখ্যেতা , কত ভালোবেসে ভদ্র নবীন বাবু ফিনফিনে ধুতি পরে  মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান, বোকাটা কি তার কিছু বোঝে? নবীন বাবু রাস্তা বানিয়ে দিয়েছেন বলেই তো তারা হেঁটে বাড়ি যেতে পারলো , নবীন বাবু তো আদিবাসীদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, এখনো তো তাড়িয়ে ছাড়েন নি. কত বড় বড় খনি মালিকরা এসেছিলেন , তারা চলে গেলেন , নবীন বাবুর শত আশ্বস্ত করণের পরেও তারা চলে গেলো , এই বোকা মেয়েটা তার পাথর হয়ে যাওয়া বাপ্ টা কে নিয়ে পুরী , কটকের বা ভুবনেশ্বরের পথে পথে ভিক্ষে করতে পারলো না? নিজেকে বেচে দিতে পারলো না, বাপটাকে নিয়ে পরে আছে এখনো? কি আস্পর্ধা ? অথচ দেখো নবীন বাবু দয়ার শরীর তাঁরই দোয়ায় তো এখনো বোকাটা বেঁচে আছে, আবার কাঁদতেও  পারছে.... একটু বুঝতে হবে তো. একটু দূরে মৃত মায়ের লাশ বাঁধতে অসুবিধা হওয়াতে ছেলের চোখের সামনে পট পট করে হাড় গুলো ভেঙে বাঁশ ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো . গরীব আদিবাসী জীবনে কুকুরের মতো থাকলো, এখন কিনা মানুষের মতো মরতে চায় ? ছোটোলোক আদিবাসী এখনো শিখলো না যে কেন্দ্রের বানিয়ে মোদির জমানাতে প্রদেশীও মনসবদররাও  ব্রাহ্মণ্য বাদী , তারাও আদিবাসী দেড় দয়া করে থাকতে দিয়েছে যাতে তারা পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন হতে পারে 

মানবিক বিকাশের সূচকের কয়েকটি উদাহরণ ভোক্তাভিত্তিক বা consumption ভিত্তিক HDI তে ওড়িশা  সূচক .২৭৫ যখন সাধারণ ভাবে তা এর কাছাকাছি থাকার কথা  ৩০ টি জেলার মধ্যে ১৫ টিতে মানুষ HDI এর নিরিখে অবমানবের জীবন যাপন করে অর্থাৎ ৮০% মানুষ সেখানে মনুষ্য পদবাচ্য জীবন কে যাপন করতে পারেন না [ গুলো আবার ওড়িশা সরকারেরই  পরিমাপ- সারণি আর তথ্য প্রেমী দের সেবার্থে এই লিংক টি দিলাম -
শতকরা ৬০ ভাগের ওপরে BPL [বা বিফল ] কার্ডধারী , এদের কার্ড আছে , সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই , চাল , ডাল চিনি নুন কিছুই মেলে না. কার্ড ঝুলিয়ে শাসকের দোরগোড়ায় ভিখিরির মতো ঘুরে বেড়ায়  মালকানগিরি, কান্ধামাল কোকড়াঝড় , কালাহান্ডি তে শতকরা ভাগ মানুষ কিছুটা পানীয় জল পান, পান বা বলে হাসিল করেছেন বললে ভালো হয় , এই সব জেলা গুলো মাও অধ্যুষিত হয়ে গেছে , কি সাহস ছোটলোকদের ? শহর গুলোতেই মাত্র ১৮% মানুষ সরবর্হিত পানীয় জল পান সেখানে গ্রামে মাত্র % ! কি অসাধারণ! গরীবদের ঝাড়ে বংশে তাড়াতে হবে যে ! যেখানে ভারতের অনন্য প্রদেশে মানুষ ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে ওড়িশায় সেখানে ৬০% . যত তাড়াতাড়ি ছোটোলোক আদিবাসী গুলো মরে ততই ভারতে গ্রোথ দ্রুত হবে.এরা না সরলে শিল্প-বাণিজ্য হইবো ক্যামতেঅথচ রাস্তা নির্মাণে ওড়িশা অনেক এগিয়ে , বড়ো বোরো মাল বাহি গাড়িগুলো কে যেতে দিতে হবে যে , এখন আবার মাওবাদী বা বনপার্টির ভয়ে সেই রাস্তা গুলো সামরিক বাহিনীর সেনানীরা পাহারা দেন  গ্রোথ এর পদতলে  ডেভেলপমেন্ট কে সেজদা দিতে হবে. তাই এই জনপথ আর হাইওয়ে অবতরণ  আমরা দেশকে দ্রুত  এগিয়ে নিয়ে যাবো , তাই সব ডেভেলপমেন্ট হবে গ্রোথ এর তরে
ওপরের অঙ্কন তা দেখুন , এই আমার  ভারতবর্ষ, এই আমার মাতৃভূমি , এই আমার সাধের মৃত্যু উপত্যকাএটা আমার দেশ কিনা সেটা তো আগামী ভারতের জামুরিয়াত নির্ধারণ করবে ইনসানিয়াত কার,% এর না বাকিদের সিদ্ধান্ত নেবে ওড়িশার মানুষ , হয়তো তারাই যারা একটু সুযোগ পেয়েছে , হয়তো নিজেদের স্বার্থ যে ছোটোলোকগুলোর স্বার্থের সঙ্গে জড়িত এই বোধ তা যখন আসবে তখন. হয়তো কর্পোরেট আর খনি মালিক দেড় অস্ট্রেলিয়া মডেল যে সুবিধাভোগীদের জীবন কেও নিচের দিকে নামিয়ে আনছে সেটা যখন বুঝতে পারবে তখন এবং তারাই এই মৃত জগদ্দল কে কাঁধ থেকে ফেলে দেবে আদিবাসী  মমতায় মৃত স্ত্রীকে সম্মান দিয়ে গেলেন, কারণ সে যে মানুষ হিসেবে মানুষ কেই সম্মান করতে শিখেছে, ছুঁড়ে ফেলতে শেখে নি. তার নাবালিকা কন্যা টি ভারত এর প্রতীক হয়ে জীবনের লড়াইয়ের কঠিন শিক্ষা শিখে নিলো এই পাথর হয়ে যাওয়া মানুষ গুলো শোষণের জগদ্দল পাথর টাকে কবে ছুঁড়ে ফেলতে শিখবে তারই অপেক্ষায় রইলাম ততদিনে ছোট্ট মা টি আমার বড়ো হোক, আমাদের মতো সুবিধাভোগী ক্লিবদের প্রতিবাদ প্রতিরোধ প্রতিশোধের পথ দেখাক সেই আশাতেই আরো কয়েকটা দশক যদি বাঁচতে  পারি,সেই পরিবর্তনের মহাকাব্য যদি পারফর্ম হতে দেখি..... মা তোর ওপর অনেক আশায় একটা না হয় !প্রণাম নিশ  ভারতের মুখ এই কার্টুন তা সারা পৃথিবী কাঁপলোআযান কুর্দি বা সিরিয়ার বালকের মতো এই ছবিটাও মানুষ কে আবার কাঁদালো .. কাঁদো আমার দেশ
Cry my beloved country!



দিনা মাঝি -- মরবার জন্যে যার জন্ম হয়েছিল পুণ্য ভূমিতে !
মানুষ কাঁদে, অন্যের বেদনা কে নিজের করে দিয়েই কাঁদে, কাঁদতে জানে বলে।  কাঁদে  বলেই তো সে মানুষ , কিছু বিশেষ নয়, কারণ সব প্রাণী ই কাঁদে।  তবে  কান্না মনুষত্বের  একটা পরিচায়ক। মানুষ হলে কাঁদবেই।  রাজারাও সময়ে অসময়ে কেঁদে ফেলে , কিছুটা মনুষত্ব আছে বলেই হয়তো , পুরোটা রাজাত্যে ভোরে যায়  নি. দিনা মাঝি ও তার মেয়ে সারা পৃথিবীকে কাঁদিয়েছিল। যেমন কাঁদিয়েছিল আযান কুর্দি -সেই ছোট্ট রাজপুত্তুর টি, আমাদের মন যার তখতে তাউস ছিল. সে সমুদ্রের উতল ভূমিতে মুখ লুকিয়ে পড়েছিল , নিজেরই এই নতিজায় নিজেই লজ্জা পেয়েছিলো, সে পৃথিবীকে না দেখে , না দেখিয়ে আমাদের সবার মন টাকে ভেঙে চুরে দিয়ে  গেলো.আযান কেঁদেছিলো কি না কে জানে, সমুদ্র সেটা আমাদের দেখতে দ্যায় নি, সেও চরম অভিমানে অথচ যথেষ্ট শিষ্ঠাচার আযান এর নিথর দেহ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।  সিরিয়া তে শক্তিমান দের  বৃষ্টি তে যে বালক টি রক্তাক্ত হয়ে সবাই কে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলো, সে কিন্তু একেবারেই কাঁদে নি।  ততদিনে পৃথিবীর শিশুদের কান্না বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক বা politically incorrect   হয়ে গিয়েছিলো। আখলাকের স্ত্রী বা কন্যা কাঁদে নি , তাদের তো আবার কাঁদতে নেই।  তারা তো হিন্দু রাষ্ট্রে মুসলমান যে ! হরিয়ানা তে এক মুসলমান মায়ের চোখের সামনে তার মেয়েদের ধর্ষণ করলো দেশভক্ত ও গো-মাতা ভক্তরা , সেই মেয়েরা কাঁদলো না. কান্না সেদিন কেঁদেছিলো কিনা কে জানে। দিনা মাঝির epic journey রপর প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি ভারতভূমি তে মানুষ ধর্ষিত হয়েছে , উপর্যুপরি , গণহত্যা, গণধর্ষণ, গণতাচ্ছিল্য বার বার বারংবার হয়েছে প্রতিদিন বর্ধিত হারে।  মানুষ কাঁদতেই পারতো , ধীরে ধীরে ভুলে গেছে  , ভুলে  গিয়ে ভালোই করেছে , ভুলে না গেলে মানুষ তদের বেঁচে থাকার ওজুদ টাকেই তো হারিয়ে ফেলতো।  ভারতে আমরা দলিত আদিবাসী মুসলমান আর নিপীড়িত মহিলাদের  অপমান, পীড়ন , ধর্ষণ , হত্যাকে আর ঘটনা বলে মনে করি না , কাঁদতে হবে সেই ভয়ে , আমরা এ মৃত্যু উপত্যকায় কান্নাকে ভয় করে চলি , নিজেদের মনকে সবচেয়ে ভয় পাই। 
সংঘিরা কাঁদে না, কাঁদলে ধর্ষণ করা যায় না, কাঁদলে আখলাক দের খুন করা যায় না, রোহিত দের ষড় করে মারা যায় না , ধর্মের নামে , জাতের নামে দেশপ্রেমের নামে গণহত্যা করা যায় না।  ধর্ষণ না করলে দেশভক্ত হওয়া  যায় না।  ধর্ষণ এই মুহূর্তে শোষকের শাসনের সবচেয়ে পরীক্ষিত হাতিয়ার।  বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে খান সেনারা করেছিল এখন কাশ্মীরে ভারতের দেশপ্রেমী সেনারা একই ভাবে করছে।  ধর্ষণ শেষে ধর্ষিতাকে বলছে পেতে যে সন্তান আসবে তার কি পরিচয় হবে? খান সেনারাও ঠিক একই  বলেছিলো ধর্ষণ শেষে।  অন্য রঙের শাসক রায় তাই করেছিল , তাপসী মালিক , রাধারানী আড্ডি কেও একই কথা বলা  হয়েছিল.. বিহারে রণবীর সেনারাও দলিত ধর্ষণে একই কথা বলেছিলো।  নির্বিশেষে একই ভাষা একই বুলি পাওয়া গেছে ধর্ষকদের মুখে। .. শাসক যে ই হোক ধর্ষণের কায়দায় ফারাক নেই। কারণ শোষণ আর শাসন  যে একই। 
সংঘিরা তাই কাঁদে নি , তাচ্ছিল্য করেছে , মৈথিলী ব্রাহ্মণ জেলাশাসক বলেছে ওটা নাকি নাটক ছিল , দিনা একবার খবর দিলেই তারা স্বর্গ রথে করে দিনার যক্ষা আক্রান্ত স্ত্রী এর লাশ তারা স্বর্গে পৌঁছে দিতো।  তার অবশ্য ঠিক একদিন পরে শকট এর অভাবে বৃদ্ধার মৃতদেহের হার গুলো মটকে ভেঙে চালান করতে হয়েছে , গরীব মানুষ তো বিড়ম্বনা।  তাই করতে হয় আর কি. সংঘিরা দিনা আর তার কন্যার দেশপ্রেমের হিসেবে নিচ্ছে।  মরেছে তো কি হয়েছে , দেশের বাইরের লোকের টাকা নেওয়া? এতো স্পর্ধা , এতো ধৃষ্ঠতা ???? বাইরের দেশের মুসলমান রাজা কেন কাঁদলো ? দিনা কে  তার জবাবদিহি করতে হবে.

এবার রাজা কেঁদেছেন , বাহরাইন এর রাজা , দিনা কে লক্ষ টাকার চেক পাঠিয়েছেন , দিনার হস্তগত হয়েছে সেটা , কিন্তু দিনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট!!!! , সেটা তো আর রাজার কল্পনাতেও আসে নি  ভারত যে এমনি আজব দেশ , যেখানে দলিতদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট মানে ধৃষ্ঠতা , এই খবর বাহরাইন এর রাজা কি করে জানবেন? এদিকে দিনা কে নিয়ে  দিনে দিনে নাটক বাড়ছে , ফড়েরা ঘুরছে তার নামে বকলমা একাউন্ট খুলে টাকার কিছুটা "fee'' এর নামে কেটে নিতে , দিনার কন্যা কে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে , কেউ আবার ঘর বানানোর লোভ দেখাচ্ছে , দলিতের ঘরে অত টাকা কোথায় থাকবে hat coat tie পড়া ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রা গাড়ি কনভয় নিয়ে ঘুর ঘুর করছে লকার খুলবে বলে , ফিক্সড ডিপোজিট করবে বলে , কিন্তু দিনার যে আধার কার্ড নেই BPL কার্ড নেই , কোনো পরিচয় পত্রও নেই, পাসপোর্টএর আশা তো দূর অস্ত , বিদেশ থেকে অনেক আগ্রহ এসেছে যাতে মেয়েটিকে উচ্চ শিক্ষা দেওয়া যায় , ওদের তো আর পাসপোর্ট নেই !!!! এই ভারত নামক মৃত্যু উপত্যকায় ওরা জন্মেছে পূর্ববর্তী জন্মের দোষ কে স্খালন করতে , ওদের যে তিলে তিলে মরতেই হবে এই মৃত্যু উপত্যকায় তবে না হয় আগের জন্মের কর্ম থেকে মুক্তি!!!! দলিত রা তো অশিক্ষিত , ব্রাহ্মণ্যবাদ বোঝে না, জানে না যে যা হচ্ছে , ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই তাদের ভালোর জন্যেই হচ্ছে , তাই এই পুন্যভারতে একটা ক্ষনিকের জীবন এর একটু কষ্ট , এরপর যে অনাবিল অনন্ত আনন্দ , সৎ-চিৎ-আনন্দ  বাহরাইনের রাজা কাঁদলেই হলো? মোছলমানের বাচ্চা তো শত হলেও, সে কি বুঝবে  মনু মুনির নিদান ?????
যাই হোক সরকার আইনের এদিক ওদিক হতে দিতে পারেন না , দিনা কে জেলে যেতে হতে পারেবিদেশী টাকা এসেছে তার কাছে , সে ট্যাক্স দ্যায় নি , বিদেশী পয়সা তার কাছে কেন আসবে , এই সব দেশদ্রোহীদের কি নিদান হবে তা মনু-কৌটিল্যের নিদান অনুযায়ী হবেপচা , sedition চার্জ   দলিত বাঁচলে ধর্ষণ , মরলে বাড়ির লোকের জেল - তো সব শাস্ত্রসম্মত , নশ্বর মানুষ কি তাকে লঙ্ঘাতে পারে? দিনারা ধর্ষিত স্ত্রীকে কন্যার স্বামী বাপ্ হওয়ার জন্যেই জন্মেছে , মরিবার তরে তাদের জন্ম !
এই মৃত্যু উপত্যকাই তো আমার জন্মভূমি ! আমার দেশ  শাস্ত্রে আছে যে !!!