Friday, October 7, 2016

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে , এবং পরিতাপের বিষয় হলেও সত্যি যে ভারত রাষ্ট্র যুদ্ধের এই রাউন্ডে অনেকটাই পিছিয়ে আছে  এই যুদ্ধটা মধ্যে সামরিক অংশের বদলে অসামরিক অংশটাই বেশি  এখনো পর্যন্ত যে চারটি ঘোষিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে হয়েছিল তার মধ্যে ১৯৭১ কার্গিল যুদ্ধে ভারত রাষ্ট্র প্রমাণিত ভাবে জয়ী হয়েছিল কারণ দুটো ক্ষেত্রেই অসামরিক স্তরে ভারত অনেক আগেই যুদ্ধে জিতে ছিল. কার্গিল যুদ্ধে তৎকালীন কংগ্রেস সরকার কার্গিল উপত্যকায় শিয়া দের সুন্নিদের সঙ্গে তব্দিলি করে যুদ্ধে জিতেই গিয়েছিলো , ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ্ পাকিস্তানী পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন, এখন তারাই ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে  ভারত সরকারের নির্বুদ্ধিতা , রাজনৈতিক অবিমিরশকারীতা জন্যে অন্ধ সাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টিভঙ্গির জন্যে এবং শুধুমাত্র বিষয় এর গভীরে যাওয়ার শিক্ষা আর ধৈর্য্যের অভাবে এবং কিছু সম্পূর্ণ অশিক্ষিত নেতৃত্বের সবজান্তা হামবড়া ভাবের অন্নে গ্রাউন্ড রিয়ালিটি ছোট খাটো বিষয়গুলোকে ধরতে না পারার জন্যে ভারত সরকার সারা পৃথিবীতে নিজেকে হাস্যকর জায়গায় নিয়ে গেছে  এই যুদ্ধ বড়ো ভয়ঙ্কর , দীর্ঘস্থায়ী এবং অনেক জ্ঞান-প্রয়োজনী , যার ক্ষমতা বা অওকাত বর্তমান সরকারি দলটির নেই  সব ব্যবসায়ী বানিয়া নয়, বানিয়া একটা বিশেষ প্রজাতির ব্যবসায়ী , যারা ব্যবসা নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যবসাটার খুঁটি নাতি বোঝে না , এটা সরাসরি ভারতের জাতিবাদের ফল , যা আজ পর্যন্ত কোনো সুফল কাউকেই দিতে পারে নি , এমনকি নিজেদেরও নয়. তাই প্রতীচ্যের ব্যবসায়ী দেশ জাতিগুলোর  মতো বানিয়ারা কোনো ইতিবাচক পরিবেশ বা ইতিহাস তৈরী করতে পারলো না

পাকিস্তান একটি দীর্ঘদিনের ব্রাত্য,ঘৃণিত অপদার্থ সামন্তী বা ফিউডাল দেশ , সামরিক বাহিনী সে দেশের সব কিছুরই মালিক , তারা সব কিছু হর্তাকর্তা , শিয়ালকোট এর   
ফুটবল তৈরির অনবদ্য লাইন অফ বিসনেস ছাড়া আর করাচির ছোট পুঁজি দোকানদারি ছাড়া তাদের কিছুই নেই  আর ঠিক তাই পাকিস্তান এতদিন যুদ্ধ গুলোতে হেরে আসছিলো  এবার আমরা প্রমান করলাম আমরা আরো কত বোকা আর অপদার্থ 

এই যুদ্ধে ওপরে ওপরে বাংলাদেশ নাকি ভারতের পক্ষে , বহুদিন ধরেই তারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত , এটা আবার অন্য পদ্ধতি তে , নিজের নাক আর পা কেটে অন্যের সঙ্গে যুদ্ধে নামা  তিনদিকে ভারতের উপস্থিতি নিজেদের চামড়া বাঁচাতে isolation এর পথ নিয়েছিল. নিজেদের দেশে শিক্ষা , স্বাস্থ , ইন্ডাস্ট্রি একেবারে শুন্যের কোঠায় নিয়ে আসা কে কিন্তু তারা একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিয়েছিল  জিয়াউর রহমানের  থেকেই বাংলাদেশ তার নিবাসী দের প্রস্তুত করতে থাকলো বাইরের দেশগুলোতে menial জব করবার জন্যে , তারা এটা করলো শূন্য লগ্নি তে বা শুন্য সরকারি খরচে unilateral transfer এর ওপর নির্ভর করে দেশের ফরেন কারেন্সী রিসার্ভ বাড়িয়ে দেশ চালানোর তস্কৰী পরিকল্পনায  এই তস্করী নিজের দেশের মানুষদের বিরুদ্ধে , বিশ্ব অর্থনীতি অন্তর্জাল বা নেটওয়ার্ক ব্রাত্য তাড়িত হবার পরে সৌদি ব্যাংকগুলোর বদান্যতায় একটা লুম্পেন বুর্জোয়া শ্রেণী বাংলাদেশের শাসকরা আর সে দেশের সামরিক বাহিনী নিজেদের অর্থনীতি কে ওহাবী রাজন্যকুল এর কাছে সংপে দিলো, মনে করলো ওই চুরি করা সম্পত্তি দিয়ে তারা পশ্চিমে আনন্দে থাকবে এই অংশের ভারত বিরোধিতা আসলে পশ্চিমবাংলার বিরোধিতার জন্যে , তাদের সাম্প্রদায়িক শক্তি গুলো [যার মধ্যে আওয়ামী লীগও অনেকটাই পরে ] বিজেপি সঙ্গে ষড় দড়  খালেদা বিবি তো বিজেপি ছাড়া কতাই কন না 
ভাষার হিন্দি আয়ন [উর্দু আয়ন , ফার্সি আয়ন বা আরবি আয়ন নয় , কারণ সেটা করতে গেলে পরিশীলনের প্রয়োজন ] একটি রাজনৈতিক পরিকল্পনা যেটা তারা ১৯৭৫ থেকে শুরু করেছে , ভাষার কদরজায়ন তাদের শিক্ষার ইচ্ছাকৃত অবনমনের অংশ  এটা তারা করেছিলো  যাতে শিক্ষিত অংশ ভারতে বা এই বাংলায় না আসে , তাদের দেশে এমনকি এলিট দের মধ্যেও ইংরিজির অবনমন করা হছ্যে [ বা অশ্রাব্য, অপাঠ্য ইংরিজি ] পড়ানো একটা রাজনৈতিক পরিকল্পনা, সমস্ত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেখানে অন্য বিদেশী ভাষার কোনো প্রচলনই নেই , তাদের দেশ থেকে যারা menial জব করতে ইংরিজি ভাষা ছাড়া অন্য দেশ গুলোতেও যায় সেখান থেকে সেই ভাষা শিখে আসা মানুষের সংখ্যা নগন্য এমনকি ভালো করে আরাবী টাও শেখে না. এই পর্যায়ে রেখে দিলে তারা ভারতে পড়াশুনো করবে না [আগে অনেক সংখ্যাতেই আসতো ] এবং বিদেশে পড়াশুনো করবার জন্যে না গিয়ে menial জব করে দ্রুত বিদেশী মুদ্রা পাঠাবে ].আর এই প্রক্রিয়ায় ভারত বিরোধিতার একটা পরিবেশ বজায় রাখতে রাখতে পারবে , শুধু ভারতের বানিয়া কর্পোরেটদের হাতে থাকা স্বাস্থ সেক্টরে পয়সা গুলোকে ফেলার বিজেপি চক্রান্তে তারা সামিল  একটা মুমূর্ষু অর্থনীতি আর তস্কর মধ্যবিত্ত সমাজ পড়শী দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কারণ শুধুমাত্র অনুপ্রবেশ রুখতেই পড়শীর ত্রাহি ত্রাহি রব উঠবে , তারা ভারতে অনুপ্রবেশ করাতে চায় না, 'অনুপ্রবেশ রেখার ' বিশাল খরচ টাকে চাপিয়ে দিতে চায় , এটা অমোঘ যুদ্ধাস্ত্র  পাকিস্তানের 'শান্তি আমন ' এর যুদ্ধাস্ত্র চাইতে এটা অনেক ভয়ঙ্কর  এটাই সৌদি-মার্কিন পরিকল্পনা , করাচ্ছে বাংলাদেশ এর ঘরে বন্দুক রেখে , হুঁকোবরদার তো!!!!.

পাকিস্তান বাংলাদেশের এই যুগপৎ যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে ভারতের যে বুদ্ধি এবং সেনসিটিভিটি প্রয়োজন ছিল সেটা উত্তর ভারতের মাথা মোটা সাম্প্রদায়িক শক্তির আধার বিজেপি নেই , ব্রাহ্মণ্যবাদের নির্বুদ্ধিতা আমাদের এই জায়গাতে এনে ফেলেছে , আমরা হারছি.
জাতীয়তাবাদ যে কোনো দেশকেই উগ্র isolation এর  দিকে ঠেলে নিয়ে যাবেই  brexit এর পর ব্রিটেন কে দেখলেই বোঝা যায়  জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশ কে জাহিলিয়াত বানিয়ে ছেড়েছে  পাকিস্তান তার এলিট অংশকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় বয়োসন্ধির সময় থেকেই তাদের দেশের সামন্তী সম্পদের ওপর ভিত্তি করে  পশ্চিমে পাকিস্তানিদের অভিবাসন অনেক সহজলভ্য  ভারত সবের থেকে আলাদা থেকে কিছুটা দাঁড়াচ্ছিল এখন সে বিশ্বের মধ্যে এমনি দেশ যেখানে সবচেয়ে বেশি গরিবের বাস , আবার এই দেশেই বাস করে বিশ্বের সবচেয়ে বড়লোকদের মধ্যে জায়গা করে নেওয়া কিছু বানিয়া  জাতীয়তাবাদ আর হিন্দুত্ববাদ এখানেই আমাদের পৌঁছে দিয়েছে  জাতীয়তাবাদ ভারতের মানুষের জাতীয় অস্মিতাকেই ধুলোয় মিটিয়ে দিয়েছে .. ভারতে এই মাণুবাদী জাতীয়তা ভারতের সবচেয়ে বড়ো জাতীয়তা বিরোধী দর্শন  রবীন্দ্রনাথের কাছে জাতীয় অস্মিতা ছিল আন্তর্জাতীয়তার একটা ফলিত বিশেষ রূপ.. এই dialectic টাই আজ হাজার দৃষ্টিতেই প্রমাণিত..  .
আমাদের হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ আমাদের যুদ্ধেও হারিয়ে দিচ্ছে,,,,,, আমরা একটা হেরো [loser ] দেশের নাগরিকে পরিণত হচ্ছি

যা দেবী সর্বলোকেষু সর্বকালেষু তস্কররূপেণ সংস্থিতা / মেরোস্তস্যৈ বানিয়াস্তস্যৈ মনুস্তস্যৈ ঘৃনায় ঘৃণ্য !

No comments: