Saturday, September 17, 2016



মাখনের মতো রাস্তা সব, যতদূর  যায় , দিক্চক্রবাল  পার করে দিয়ে রাস্তার দু ধার একটি বিন্দু তে মাইল গেলো দূরে চাঁদের ঠিক নিচে.আহা কি আনন্দ , কি সুন্দর! পৃথিবী তার সমস্ত কোলাহল থামিয়ে এখানে টুরিস্ট দের ডাকছেন , আসুন ওড়িশায় আসুন , প্রকৃতির কোলে! ধু ধু বালুকা বেলা, ছাড়া ছাড়া জঙ্গল , শান্ত সমাহত , পারবেন আপনি পরিজন নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঊষর মরুভূমি থেকে জঙ্গলের ভেতরে , মাঝে মাঝে কিছু হাতি আপনার  ঘাড় ঘুড়িয়ে আবার নিজের মতো নিজের পথে চলে যেতে পারে ওড়িশায় না এলে জীবন অতৃপ্ত, থেকে যায়. আপনি কি জানেন ? ওড়িশায় একটা  পর্বত আছে যেখানে বরফ পড়ে বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে. ওড়িশায় আছে অপূর্ব গেস্ট হাউস, যেখানে নরম মোলায়েম আলো তে আপনি চাঁদের নজরের নিচে দারুন রোমান্টিক সন্ধ্যে অতিবাহিত করতে পারেন? হ্যাঁ এটা জগন্নাথ দেবের নিজের  দেশ,এখানে মানুষরা হাস্যমুখ , সব সময়ে আপনাকে অভ্যর্থনা  করছেন.ওড়িশায় পাবেন মহুয়া, কেয়া ফুল, পাবেন বেহুঁশ হওয়ার সমস্ত উপকরণ ওড়িশা রোমান্স এর লীলাক্ষেত্র

এটাই ওড়িশা পর্যটন বিভাগের মুখবন্ধ , যার প্রত্যেকটি ছোট্র সত্যি প্রত্যেকটি জুমলা আরো অনেক মহিমান্বিত আরো অনেক সুন্দর হতে পারতো , বাস্তব তা আরো অনেক গুন্ নয়নাভিরাম অনেক রোমান্টিক ওড়িশার প্রকৃতির কোনো তুলনা দেশে তো  নেই  আসুন ওড়িশায় যাই  প্রিয়জন কে আরো নিবিড় ভালোবাসার ডোরে আলিঙ্গনের জন্যে
ওপরের ছবিটা এখন সারা পৃথিবীতে দাবানলের মতো ছড়িয়ে গেছে , এটাও কিন্তু সেই স্বর্গের আর একটা ছবি. ওড়িশা   লুকিয়ে আছে আর এক ওড়িশা , মানুষের ওড়িশা , এই সেই আরো বাস্তব ওড়িশার মানুষের মুখ , স্বামী  স্ত্রীকে কাঁধে করে ১২ কিলোমিটার হাঁটলেন সেই মাখনের মতো পথ ধরে. পথ গুলো জনপথ নয় দু ধারে মানুষের বা জনের পদ পড়ে না, সেখানে আদিবাসী মানুষ মৃতদেহ নিয়ে হেঁটে থাকেন মিলের পর মাইল , 'বাড়িতে' সমাহিত করবার আশায়, পাশে পাশে চলেছে তার এক রত্তি মেয়ে ওই  তপ্ত ঊষর  মরুভূমি রাস্তা দিয়ে  পায়ে.. আদিবাসীর চোখের জল এর মূল্য এই ওড়িশায় বা এই ভারতে কিছুই থাকতে নেই , বোকা মেয়েটা সেটা বোঝে না , বোকা তো ! মায়ের মৃত্যুতে কাঁদতে শিখেছে , ভারতের কর্পোরেট উন্নতির এই মহাযজ্ঞে তার মায়ের মতো তুচ্ছ জীবনের মূল্য যে থাকতে নেই , বোকা মেয়েটা সেটা বোঝে না. জগৎসভায় ওড়িশার এখন বিরাট নামডাক, যেমন পর্যটনে তেমন কর্পোরেট ভুবনেশ্বর শহরে , ওটা যে ভুবনের ঈশ্বরের বাটিকা , বোকা মেয়েরা অবুঝ হলে কি আর বিলেতে শিক্ষাপ্রাপ্ত ছোট ইংরিজি বলা  নবীন পট্টনায়ক মেয়েটার দিকে নজর দেবে? বোকাটা বোঝে না, বাবা বোঝেন , মৃত স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে নিজেই পাথর , পাথর এর মতো মৃতদেহ নিয়ে অশ্রুরোহিত স্বামী হেঁটে চলেছেন , যেমন দৌড়িয়েছিলেন সঞ্জীব পুরোহিত , চাকরির আশায় , মুখ থুবড়ে পরে  গেলেন.ব্যস লোভের শেষ. আদিবাসীদের আবার মন? থাকতে আছে নাকি ? ব্রাহ্মণ নবীন আর তার ব্রাহ্মণ জেলাশাসক তো অবাক , সব আবার হয় নাকিছুঁড়ে ফেলে দিলো না কেন? ন্যাকামির অন্ত নেই ... আদিখ্যেতা , কত ভালোবেসে ভদ্র নবীন বাবু ফিনফিনে ধুতি পরে  মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান, বোকাটা কি তার কিছু বোঝে? নবীন বাবু রাস্তা বানিয়ে দিয়েছেন বলেই তো তারা হেঁটে বাড়ি যেতে পারলো , নবীন বাবু তো আদিবাসীদের বাঁচিয়ে রেখেছেন, এখনো তো তাড়িয়ে ছাড়েন নি. কত বড় বড় খনি মালিকরা এসেছিলেন , তারা চলে গেলেন , নবীন বাবুর শত আশ্বস্ত করণের পরেও তারা চলে গেলো , এই বোকা মেয়েটা তার পাথর হয়ে যাওয়া বাপ্ টা কে নিয়ে পুরী , কটকের বা ভুবনেশ্বরের পথে পথে ভিক্ষে করতে পারলো না? নিজেকে বেচে দিতে পারলো না, বাপটাকে নিয়ে পরে আছে এখনো? কি আস্পর্ধা ? অথচ দেখো নবীন বাবু দয়ার শরীর তাঁরই দোয়ায় তো এখনো বোকাটা বেঁচে আছে, আবার কাঁদতেও  পারছে.... একটু বুঝতে হবে তো. একটু দূরে মৃত মায়ের লাশ বাঁধতে অসুবিধা হওয়াতে ছেলের চোখের সামনে পট পট করে হাড় গুলো ভেঙে বাঁশ ঝুলিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো . গরীব আদিবাসী জীবনে কুকুরের মতো থাকলো, এখন কিনা মানুষের মতো মরতে চায় ? ছোটোলোক আদিবাসী এখনো শিখলো না যে কেন্দ্রের বানিয়ে মোদির জমানাতে প্রদেশীও মনসবদররাও  ব্রাহ্মণ্য বাদী , তারাও আদিবাসী দেড় দয়া করে থাকতে দিয়েছে যাতে তারা পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন হতে পারে 

মানবিক বিকাশের সূচকের কয়েকটি উদাহরণ ভোক্তাভিত্তিক বা consumption ভিত্তিক HDI তে ওড়িশা  সূচক .২৭৫ যখন সাধারণ ভাবে তা এর কাছাকাছি থাকার কথা  ৩০ টি জেলার মধ্যে ১৫ টিতে মানুষ HDI এর নিরিখে অবমানবের জীবন যাপন করে অর্থাৎ ৮০% মানুষ সেখানে মনুষ্য পদবাচ্য জীবন কে যাপন করতে পারেন না [ গুলো আবার ওড়িশা সরকারেরই  পরিমাপ- সারণি আর তথ্য প্রেমী দের সেবার্থে এই লিংক টি দিলাম -
শতকরা ৬০ ভাগের ওপরে BPL [বা বিফল ] কার্ডধারী , এদের কার্ড আছে , সুযোগ বা ব্যবস্থা নেই , চাল , ডাল চিনি নুন কিছুই মেলে না. কার্ড ঝুলিয়ে শাসকের দোরগোড়ায় ভিখিরির মতো ঘুরে বেড়ায়  মালকানগিরি, কান্ধামাল কোকড়াঝড় , কালাহান্ডি তে শতকরা ভাগ মানুষ কিছুটা পানীয় জল পান, পান বা বলে হাসিল করেছেন বললে ভালো হয় , এই সব জেলা গুলো মাও অধ্যুষিত হয়ে গেছে , কি সাহস ছোটলোকদের ? শহর গুলোতেই মাত্র ১৮% মানুষ সরবর্হিত পানীয় জল পান সেখানে গ্রামে মাত্র % ! কি অসাধারণ! গরীবদের ঝাড়ে বংশে তাড়াতে হবে যে ! যেখানে ভারতের অনন্য প্রদেশে মানুষ ৮০ বছর পর্যন্ত বাঁচে ওড়িশায় সেখানে ৬০% . যত তাড়াতাড়ি ছোটোলোক আদিবাসী গুলো মরে ততই ভারতে গ্রোথ দ্রুত হবে.এরা না সরলে শিল্প-বাণিজ্য হইবো ক্যামতেঅথচ রাস্তা নির্মাণে ওড়িশা অনেক এগিয়ে , বড়ো বোরো মাল বাহি গাড়িগুলো কে যেতে দিতে হবে যে , এখন আবার মাওবাদী বা বনপার্টির ভয়ে সেই রাস্তা গুলো সামরিক বাহিনীর সেনানীরা পাহারা দেন  গ্রোথ এর পদতলে  ডেভেলপমেন্ট কে সেজদা দিতে হবে. তাই এই জনপথ আর হাইওয়ে অবতরণ  আমরা দেশকে দ্রুত  এগিয়ে নিয়ে যাবো , তাই সব ডেভেলপমেন্ট হবে গ্রোথ এর তরে
ওপরের অঙ্কন তা দেখুন , এই আমার  ভারতবর্ষ, এই আমার মাতৃভূমি , এই আমার সাধের মৃত্যু উপত্যকাএটা আমার দেশ কিনা সেটা তো আগামী ভারতের জামুরিয়াত নির্ধারণ করবে ইনসানিয়াত কার,% এর না বাকিদের সিদ্ধান্ত নেবে ওড়িশার মানুষ , হয়তো তারাই যারা একটু সুযোগ পেয়েছে , হয়তো নিজেদের স্বার্থ যে ছোটোলোকগুলোর স্বার্থের সঙ্গে জড়িত এই বোধ তা যখন আসবে তখন. হয়তো কর্পোরেট আর খনি মালিক দেড় অস্ট্রেলিয়া মডেল যে সুবিধাভোগীদের জীবন কেও নিচের দিকে নামিয়ে আনছে সেটা যখন বুঝতে পারবে তখন এবং তারাই এই মৃত জগদ্দল কে কাঁধ থেকে ফেলে দেবে আদিবাসী  মমতায় মৃত স্ত্রীকে সম্মান দিয়ে গেলেন, কারণ সে যে মানুষ হিসেবে মানুষ কেই সম্মান করতে শিখেছে, ছুঁড়ে ফেলতে শেখে নি. তার নাবালিকা কন্যা টি ভারত এর প্রতীক হয়ে জীবনের লড়াইয়ের কঠিন শিক্ষা শিখে নিলো এই পাথর হয়ে যাওয়া মানুষ গুলো শোষণের জগদ্দল পাথর টাকে কবে ছুঁড়ে ফেলতে শিখবে তারই অপেক্ষায় রইলাম ততদিনে ছোট্ট মা টি আমার বড়ো হোক, আমাদের মতো সুবিধাভোগী ক্লিবদের প্রতিবাদ প্রতিরোধ প্রতিশোধের পথ দেখাক সেই আশাতেই আরো কয়েকটা দশক যদি বাঁচতে  পারি,সেই পরিবর্তনের মহাকাব্য যদি পারফর্ম হতে দেখি..... মা তোর ওপর অনেক আশায় একটা না হয় !প্রণাম নিশ  ভারতের মুখ এই কার্টুন তা সারা পৃথিবী কাঁপলোআযান কুর্দি বা সিরিয়ার বালকের মতো এই ছবিটাও মানুষ কে আবার কাঁদালো .. কাঁদো আমার দেশ
Cry my beloved country!



দিনা মাঝি -- মরবার জন্যে যার জন্ম হয়েছিল পুণ্য ভূমিতে !
মানুষ কাঁদে, অন্যের বেদনা কে নিজের করে দিয়েই কাঁদে, কাঁদতে জানে বলে।  কাঁদে  বলেই তো সে মানুষ , কিছু বিশেষ নয়, কারণ সব প্রাণী ই কাঁদে।  তবে  কান্না মনুষত্বের  একটা পরিচায়ক। মানুষ হলে কাঁদবেই।  রাজারাও সময়ে অসময়ে কেঁদে ফেলে , কিছুটা মনুষত্ব আছে বলেই হয়তো , পুরোটা রাজাত্যে ভোরে যায়  নি. দিনা মাঝি ও তার মেয়ে সারা পৃথিবীকে কাঁদিয়েছিল। যেমন কাঁদিয়েছিল আযান কুর্দি -সেই ছোট্ট রাজপুত্তুর টি, আমাদের মন যার তখতে তাউস ছিল. সে সমুদ্রের উতল ভূমিতে মুখ লুকিয়ে পড়েছিল , নিজেরই এই নতিজায় নিজেই লজ্জা পেয়েছিলো, সে পৃথিবীকে না দেখে , না দেখিয়ে আমাদের সবার মন টাকে ভেঙে চুরে দিয়ে  গেলো.আযান কেঁদেছিলো কি না কে জানে, সমুদ্র সেটা আমাদের দেখতে দ্যায় নি, সেও চরম অভিমানে অথচ যথেষ্ট শিষ্ঠাচার আযান এর নিথর দেহ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।  সিরিয়া তে শক্তিমান দের  বৃষ্টি তে যে বালক টি রক্তাক্ত হয়ে সবাই কে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলো, সে কিন্তু একেবারেই কাঁদে নি।  ততদিনে পৃথিবীর শিশুদের কান্না বোধহয় অপ্রাসঙ্গিক বা politically incorrect   হয়ে গিয়েছিলো। আখলাকের স্ত্রী বা কন্যা কাঁদে নি , তাদের তো আবার কাঁদতে নেই।  তারা তো হিন্দু রাষ্ট্রে মুসলমান যে ! হরিয়ানা তে এক মুসলমান মায়ের চোখের সামনে তার মেয়েদের ধর্ষণ করলো দেশভক্ত ও গো-মাতা ভক্তরা , সেই মেয়েরা কাঁদলো না. কান্না সেদিন কেঁদেছিলো কিনা কে জানে। দিনা মাঝির epic journey রপর প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি ভারতভূমি তে মানুষ ধর্ষিত হয়েছে , উপর্যুপরি , গণহত্যা, গণধর্ষণ, গণতাচ্ছিল্য বার বার বারংবার হয়েছে প্রতিদিন বর্ধিত হারে।  মানুষ কাঁদতেই পারতো , ধীরে ধীরে ভুলে গেছে  , ভুলে  গিয়ে ভালোই করেছে , ভুলে না গেলে মানুষ তদের বেঁচে থাকার ওজুদ টাকেই তো হারিয়ে ফেলতো।  ভারতে আমরা দলিত আদিবাসী মুসলমান আর নিপীড়িত মহিলাদের  অপমান, পীড়ন , ধর্ষণ , হত্যাকে আর ঘটনা বলে মনে করি না , কাঁদতে হবে সেই ভয়ে , আমরা এ মৃত্যু উপত্যকায় কান্নাকে ভয় করে চলি , নিজেদের মনকে সবচেয়ে ভয় পাই। 
সংঘিরা কাঁদে না, কাঁদলে ধর্ষণ করা যায় না, কাঁদলে আখলাক দের খুন করা যায় না, রোহিত দের ষড় করে মারা যায় না , ধর্মের নামে , জাতের নামে দেশপ্রেমের নামে গণহত্যা করা যায় না।  ধর্ষণ না করলে দেশভক্ত হওয়া  যায় না।  ধর্ষণ এই মুহূর্তে শোষকের শাসনের সবচেয়ে পরীক্ষিত হাতিয়ার।  বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে খান সেনারা করেছিল এখন কাশ্মীরে ভারতের দেশপ্রেমী সেনারা একই ভাবে করছে।  ধর্ষণ শেষে ধর্ষিতাকে বলছে পেতে যে সন্তান আসবে তার কি পরিচয় হবে? খান সেনারাও ঠিক একই  বলেছিলো ধর্ষণ শেষে।  অন্য রঙের শাসক রায় তাই করেছিল , তাপসী মালিক , রাধারানী আড্ডি কেও একই কথা বলা  হয়েছিল.. বিহারে রণবীর সেনারাও দলিত ধর্ষণে একই কথা বলেছিলো।  নির্বিশেষে একই ভাষা একই বুলি পাওয়া গেছে ধর্ষকদের মুখে। .. শাসক যে ই হোক ধর্ষণের কায়দায় ফারাক নেই। কারণ শোষণ আর শাসন  যে একই। 
সংঘিরা তাই কাঁদে নি , তাচ্ছিল্য করেছে , মৈথিলী ব্রাহ্মণ জেলাশাসক বলেছে ওটা নাকি নাটক ছিল , দিনা একবার খবর দিলেই তারা স্বর্গ রথে করে দিনার যক্ষা আক্রান্ত স্ত্রী এর লাশ তারা স্বর্গে পৌঁছে দিতো।  তার অবশ্য ঠিক একদিন পরে শকট এর অভাবে বৃদ্ধার মৃতদেহের হার গুলো মটকে ভেঙে চালান করতে হয়েছে , গরীব মানুষ তো বিড়ম্বনা।  তাই করতে হয় আর কি. সংঘিরা দিনা আর তার কন্যার দেশপ্রেমের হিসেবে নিচ্ছে।  মরেছে তো কি হয়েছে , দেশের বাইরের লোকের টাকা নেওয়া? এতো স্পর্ধা , এতো ধৃষ্ঠতা ???? বাইরের দেশের মুসলমান রাজা কেন কাঁদলো ? দিনা কে  তার জবাবদিহি করতে হবে.

এবার রাজা কেঁদেছেন , বাহরাইন এর রাজা , দিনা কে লক্ষ টাকার চেক পাঠিয়েছেন , দিনার হস্তগত হয়েছে সেটা , কিন্তু দিনার ব্যাঙ্ক একাউন্ট!!!! , সেটা তো আর রাজার কল্পনাতেও আসে নি  ভারত যে এমনি আজব দেশ , যেখানে দলিতদের ব্যাঙ্ক একাউন্ট মানে ধৃষ্ঠতা , এই খবর বাহরাইন এর রাজা কি করে জানবেন? এদিকে দিনা কে নিয়ে  দিনে দিনে নাটক বাড়ছে , ফড়েরা ঘুরছে তার নামে বকলমা একাউন্ট খুলে টাকার কিছুটা "fee'' এর নামে কেটে নিতে , দিনার কন্যা কে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে , কেউ আবার ঘর বানানোর লোভ দেখাচ্ছে , দলিতের ঘরে অত টাকা কোথায় থাকবে hat coat tie পড়া ব্যাঙ্ক ম্যানেজার রা গাড়ি কনভয় নিয়ে ঘুর ঘুর করছে লকার খুলবে বলে , ফিক্সড ডিপোজিট করবে বলে , কিন্তু দিনার যে আধার কার্ড নেই BPL কার্ড নেই , কোনো পরিচয় পত্রও নেই, পাসপোর্টএর আশা তো দূর অস্ত , বিদেশ থেকে অনেক আগ্রহ এসেছে যাতে মেয়েটিকে উচ্চ শিক্ষা দেওয়া যায় , ওদের তো আর পাসপোর্ট নেই !!!! এই ভারত নামক মৃত্যু উপত্যকায় ওরা জন্মেছে পূর্ববর্তী জন্মের দোষ কে স্খালন করতে , ওদের যে তিলে তিলে মরতেই হবে এই মৃত্যু উপত্যকায় তবে না হয় আগের জন্মের কর্ম থেকে মুক্তি!!!! দলিত রা তো অশিক্ষিত , ব্রাহ্মণ্যবাদ বোঝে না, জানে না যে যা হচ্ছে , ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারেই তাদের ভালোর জন্যেই হচ্ছে , তাই এই পুন্যভারতে একটা ক্ষনিকের জীবন এর একটু কষ্ট , এরপর যে অনাবিল অনন্ত আনন্দ , সৎ-চিৎ-আনন্দ  বাহরাইনের রাজা কাঁদলেই হলো? মোছলমানের বাচ্চা তো শত হলেও, সে কি বুঝবে  মনু মুনির নিদান ?????
যাই হোক সরকার আইনের এদিক ওদিক হতে দিতে পারেন না , দিনা কে জেলে যেতে হতে পারেবিদেশী টাকা এসেছে তার কাছে , সে ট্যাক্স দ্যায় নি , বিদেশী পয়সা তার কাছে কেন আসবে , এই সব দেশদ্রোহীদের কি নিদান হবে তা মনু-কৌটিল্যের নিদান অনুযায়ী হবেপচা , sedition চার্জ   দলিত বাঁচলে ধর্ষণ , মরলে বাড়ির লোকের জেল - তো সব শাস্ত্রসম্মত , নশ্বর মানুষ কি তাকে লঙ্ঘাতে পারে? দিনারা ধর্ষিত স্ত্রীকে কন্যার স্বামী বাপ্ হওয়ার জন্যেই জন্মেছে , মরিবার তরে তাদের জন্ম !
এই মৃত্যু উপত্যকাই তো আমার জন্মভূমি ! আমার দেশ  শাস্ত্রে আছে যে !!!


No comments: