Tuesday, January 12, 2016

২৮ দিনের শিশু ধর্ষিত  হলো।  পাশবিক বলা যাবে না, কারণ পশু রা কখনই এটা করার কথায় ভাবে না, খুব বেশি হলে অন্যের শিশু খেয়ে ফেলে, তাও নাকি evolution এর প্রক্রিয়ায় সেটা ও কমে গ্যাছে , অন্তত বনদপ্তর তাই বলছে।  "মানবিক" বা "মানুষিক " ও বলা যাবে না, কারণ, মনুষ্য ইতিহাসে এরকম শোনা যায় নি।  "ভারতীয়" বলা যেতেই পারে। বিদেশে বিশেষত পূর্ব ইউরোপ ও রুস দেশে এবং মধ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাকি আজকাল মায়েরা দুরে ভারতীয় দেখলে শিশু বা কিশোরী দের আগলে রাখছে, সরিয়ে নিচ্ছে।  একেবারে অহেতুক বলা কঠিন, মায়েদের কাছে সন্তানের security , সাধারণ সামাজিক morality র থেকে অনেক বেশি জরুরি। হ্যা "ভারতীয়" নামাঙ্কন তাই সমীচীন কারণ, প্রায় সারা বহির্বিশ্বে "ধর্ষক" আর "ভারতীয় " শব্দ দুটি সমার্থক। পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র এই দেশেই ধর্ষণের অভিযোগে শাস্তি পাওয়া বড়ই দুষ্কর , পেলেও  সময় সাপেক্ষ , এতটাই যে শাস্তি হয়ই না, হলেও খুব টানাটানি করে ৭ বছর. ধর্ষণ আর যুগপত খুনে মাত্র একটি ফাঁসি হয়েছে এবং সেটা একেবারে খুবই বিতর্কিত , একটি honour killing কে ঢাকতে গিয়ে টাকার জোরে ফাঁসি দেওয়া হযেছিল। আর সব ভয়ংকর ধর্ষণ ধর্ষক দের রাজার হালে জেল এ রাখা হযেছে।

ধর্ষক আর ভারতীয় কেন সমার্থক হবে না? এ দেশের পুরানে প্রায় প্রত্যেকটি দেবতা ধর্ষক  ছিল,ধর্ষণ কে এ দেশে একটা গুন বলে ধরা হয়, পৌরুষ এর নামে।  একমাত্র দেশ এই ভারতবর্ষ যেখানে পৌরুষ একটি গুন।  এখানে গর্ব করে বাবা মা তাদের সন্তানের নাম রাখে বরালিঙ্গাম , মহলিন্গম , শিভালিঙ্গাম, আরো কত কিছু? একটা গোষ্ঠির পরিচায়ীক নাম বা তাখাল্লুস "লিঙ্গ্য়ায়েত ", সেটা নাকি গর্বের বিষয়!  এ দেশে প্রতিটি কোনায় লিঙ্গ পুজো হচ্ছে , কুমারী কিশোরীরা লিঙ্গের আশায় লিঙ্গের প্রতিমাতে দুধ ঢালছে , দুধ এখানে ঔরসের অনুসঙ্গ অর্থাত পুরুষ ঔরসের অনুসঙ্গ।  এই দেশে প্রকৃতির ওপরে পুরুষের স্থান, এ খানে স্রাবের ওপরে ঔরসের স্থান [ সরস্বতী র পুরানিক ধারণা কে গ্রহণ না করে বর্জন করা হলো- সমগ্র উত্তর ভারতে ] দেবী-ভাগবত কে অস্হীকার করে শ্রী-মদ-ভাগবত কে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার জন্যে ১০৮ টি পুরানের মাত্র  পরম্পরার ১৮টি পুরানকেই মহা পুরান বলা হলো. এই দেশে বন্দে মাতরম কে প্রতিস্থাপিত করা হলো, বন্দে পুরুশোত্তম হিসেবে , দূর্গা র ওপর রাম এর স্থান, এ দেশে ব্রাহ্মাপ্রতিভ সরস্বতী কে অস্হীকার করার জন্যে দূর্গা র ওপরে শিব কে বসানো হলো।  আর প্রধান তিন troika তে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব কে বসানো হলো।  কালী কে ব্রাত্য করে শক্তির নারী রূপ কে বদলে পৌরুষের যোদ্ধা রূপ কে বসানো হলো , এমনকি পশ্চিমের chivalry র গুন কে বদলে  যোধ্হার রূপ আনা হলো এবং প্রতিটি যোধ্হা কেই ধর্ষক বানানো হলো কারণ ধর্ষণ ছাড়া সে তো পুরুষ হলো না না? ধর্ষণ , নারী চুরি , বহু বল্লভা , বহুগামী পুরুষের  গর্বের গুন।  এই সংস্কৃতি তে স্ত্রী এর প্রতি আনুগত্য কে স্ত্রৈণ বলে গাল পারা হয়, এখানে স্ত্রী এর মূল্য গরু র সঙ্গে এক পংতি তে, তাই ধর্ষণ না করলে পুরুষ রা বড় হলো না , যথেষ্ট পুরুষ হলো না।  আর ঠিক এই কারণেই ভারতীয় আর ধর্ষক সমার্থক, এটাই আমাদের জাতীয় পরিচিতি বা national identity . এই মৃত্যু উপত্যকা আমার আপনার দেশ হতে পারে না, এই ধর্ষকের লীলাভূমি আমার মাতৃভূমি নয়।  যে বাপ তার ধর্ষক পুত্র কে বাঁচিয়ে রাখে , আমি তাকে ঘৃনা করি. যে মা তার ধর্ষক পুত্র কে লুকিয়ে র্কাহে , নিজে হাতে বিষ মিশিযে মেরে ফেলে না, আমি তাকে ঘৃনা করি।  আমি তাই ঘোরতর দেশদ্রোহী।  এ দেশে দশপ্রেমি হতে গেলে পবিত্র দেশদ্রোহ এর পতাকা তুলতে হবে।  ধ্বজা  লিখতে পারলাম না, কারণ এ দেশের ভাষা গুলোতে ধহজা বলতে উত্থিত লিঙ্গ কেই বোঝায়।  এখানে লিঙ্গ উথ্ছান এর অপারগতা কে ধ্বজভঙ্গ বলে গাল দেওয়া হয়, অসুস্থ স্ত্রীকে বিদেয় করে দেওয়াকেও ধর্মীয় ইজাজত দেওয়া হয়।  এখানে যুধ্হের ধ্হজা আর ধর্ষকের উত্থিত লিঙ্গ দুটি ঐশীক ক্ষমতা।  এ দেশে ২৮ দিনের শিশু কে ধর্ষণ করার পরে দেশ টা উল্টে গ্যালো না।

গণহত্যার থেকে অনেক ভয়ংকর এই ঘটনা টি, দেশ জ্বলে  ওঠা উচিত ছিল, একটি পাতাও নড়ল না, কোনো বড় কাগজেও বেরোলো না, য্যামন বেরয় না ধর্মের নাম ধর্ষণ এর খবর।  আমরা তাই সবাই ধর্ষক, কারণ আমরা রাগী না, আমরা ফুঁসে উঠি না, ঘেন্নায় নিজেদের মাথা নিচু করি না, সমগ্র নারী জাতির কাছে হাঁটু গেড়ে মাথা নিচু করে মাফি ভিক্ষা করি না, কারণ আমরা ভারতীয় পুরুষ, আমরা কুমারী পূজা করি , আবার তাদের ধর্ষণকারী কেও কেষ্ট র জীব বলে ক্ষমা করে দি. আমরা ধর্ষক না হলে কে ই বা ধর্ষক!  ভারতীয় মানে তাই ধর্ষক!
স্বপ্নময় চক্রবর্তী বা স্বপন চযত্তি আবার গল্প লিখলেন, ছোট গল্প, খুবই ছোট।  তিনি অনুগল্পকার হিসেবে বেমিসাল , এবার আর-একটু-বড় অথচ ছোট গল্পের থেকে ছোট গল্প লিখলেন, আজকাল অবশ্য ছোট গল্প ও লেখেন, বড় গল্প ও নাকি লিখেছেন, উপন্যাস নাকি লিখেছেন, ওঁর লেখার উপন্যাস আমি পড়িনি, যে টান টান লেখার জন্যে উনি প্রসিদ্ধ সেটা উনি উপন্যাস এ ধরে রাখতে পেরেছেন কিনা জানি না।  আমি কিন্তু অনেকের মতই ওই টান টান এক নিশ্বাসে এক নিসস্তে পড়া র লেখা তেই ওঁকে দেখতে অভ্যস্ত। এই মুহুর্তে বাংলা কেন পৃথিবীর কোনো ভাষায় এই ধরনের শক্তিশালী গল্প লেখা হচ্ছে কিনা জানি না।  শেষ পেয়েছিলাম হেইনরিশ ব্যেল বা মন্ট র লেখায়। তাই উনি সর্ব অর্থেই বাংলার হেইন্রিশ ব্যেল। 

"রামায়নে কেরামত" গল্পের নাম।  কেরামতুল্লাহ কি করে রামায়নে ঢুকে গ্যালো তা নিয়ে গল্প। প্রথম শব্দ থেকে [ নাম দিয়ে শুরু] উনি pun ঢোকাচ্ছেন , প্রতীক ঢোকাচ্ছেন , প্রতিটি শব্দে বহু-মাত্রিকতা দেখাচ্ছেন, অথচ কঠিন কঠোর বাস্তব বা realism এর থেকে এক চুল নড়েন নি।  নবারুণ এর পরে এই একজন কে দেখলাম একেবারে উপমার মত ন্যাকাম কে প্রশ্রয় দেন  না।  রামায়নে কি কেরামত করা যেতে পারে বা পারত বা কেরামত মিয়া physically কি করে রামায়নে ঢুকে গেল তার কয়েক টি চুল এর মাধ্যমে , বা সেই চুল সীতার চুল না দুর্বাশার চুল না, বাংলার প্রতিটি নারীর স্মৃতি র প্রতীক কিনা সেই নির্দিষ্টকরণ স্বপন দা উহ্য রেখেছেন ইচ্ছে করেই। প্রতিটি চরিত্র এই গল্পে প্রতীকি, এক একেকটা বড় বর্গের প্রতিরূপ।  এত ছোট গল্পের মধ্যে একটা বিশেষ বহমান সময়ের বিভিন্ন শ্রেণী ও শ্রেণী চরিত্রের যে রূপ গুলো তুলে ধরেছেন তা দেখলে লেনিন এর তলস্তয় সম্মন্ধ্যে মন্তব্য গুলো স্মরণ এ আসে।  কি অনবদ্য মানবিকতা দিয়ে প্রতিটি চরিত্রের স্ববিরোধিতা গুলো এঁকেছেন , আর খেতে খাওয়া গরীব মানুষের চরিত্রের নম্র ঋজুতা কে দেখিয়েছেন তা একমাত্র এক শ্রেণী সচেতন লেখকই পারেন , যার মূর্ত রূপ স্বপন দা।
ব্রজলাল চক্রবর্তী ফরিদপুরী বাওন পরিবারের বড় কর্তা, সবার দায় নিয়ে ১৯৫০ এর পরে উদ্বাস্তু হয়ে কৈলকাত্তা ই আইলেন, কিন্তু হেই আইলেন রিটায়ারমেন্ট এর পরে, অর্থাত পাকিস্তানি জমানার চাকরি শেষ করে সমস্ত বেনিফিট হাতিয়েই এলেন। এর আগে তাঁর পরিবারের স্ত্রী ধনের মর্যাদার কথা মনে হয় নি, ছোটখাটো ঘটনার পরে তাঁর মনে হলো আর থাওন যাইবার পারে না, আইলেন চইলা , দুই পোলা আসামে নাকি কি কম কাজ করে, পাকিস্তানের জমি জায়দাত বেইচ্চা মন্দ টাকা হয় নাই, হ্যার উপরে আসে ওই ঘর ভাঙ্গনের টেহাগুলান , মন্দ না তা প্রায় হাজার খানেক কি তার ও এট্টু বেশি , [সেই আমলে যার মূল্য আকাশচুম্বী] , অবশ্য আনার সময় বললেন যে বাপ দাদার ভিটা র ঘর কি আর মোসলমানেগো ব্যবহারের জন্য ছাইরা আহন যায়? অর্থাত যত রকম টেহা পয়সার হিসাবের পেছনে একটা সান্স্কৃতিক মূল্য যোগ করে দেবার বামনা ঢ্যামনা মো ছাড়লেন না।  চলে এলেন সেইফ এন্ড সাউন্ড ! এইহানে হিন্দু দ্যাশে সরকারের দানে ভালই ছোট খাট কয়েকখান গাছ সহ আড়াই কামড়া টিনের চালের ঘর ও পাইলেন , তাইতে আবার কয়েকঘর ভারায়ট্যার লগে ভাগ কইরা লইলেন।  ভালই। ক্ষয়ীষ্ণু হারামি সাবর্ণ চয়িত্ত বামনার প্রতীক চরিত্র ব্রজলাল তার ও তার  ভাইয়ের সংসার সহ সিঁথি তে পরিত্যক্ত বিমান পোতে আইসা খুঁটি  পুঁতলেন।  টিপিকাল হারামি উদ্বাস্তু যার কিন্তু ভেতর টা  নরম, এবং চরম clanish  বাঙাল -অত্তের সর্ব গুনে গুনান্নিত। নিজের মানুষ গুলোর দায় ন্যান, নিজের প্রাক্তন দ্যাশের মাইনষের প্রতি একটা অপত্য স্নেহ ও বর্তমান, মুসলমানদের পরশ বাঁচিয়ে ঘৃনা বজায় রেখে যতটুকু কাছের করা যায় সেটা কিন্তু অনার অন্তর থেকে আসে।  সাবর্ণ বাঙাল দের এই আপাত বৈপরিত্য উদ্বাস্তু মনন ছাড়া বোঝার উপায় নেই. আমরা যারা দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্বাস্তু সন্তান তারা একটা হারে মজ্জায় বুঝি। এই মানুষগুলো, দায়িত্বশীল কিন্তু limited কারণ ক্রাইসিস এ "কিই বা কইরতে পারতাম"? - স্বচ্ছ অকপট স্বীকারোক্তি - তবে কিনা এই স্বীকারোক্তি টুকু কোনো পুরুষ কর্তা র মুখ থেকে বেরয় না, বেরোনোর জন্যে দরকার এক নারী চরিত্রের, যে সর্ব দৃষ্টিতেই ব্রাত্য, নিপীড়িত ও পরাজিত কিন্তু একমাত্র লড়ে যাওয়া ছাড়া যাদের আর কোনো চয়েস নাই।  - মধ্যবিত্ত সাবর্ণ নখদন্তহীন de -skilled, parasite অকর্মের ঢেঁকি চরিত্র [ব্রজলাল এখানে এসে ভাঙানো টাকায় দিন গুজরান করবে কিন্তু টিউশন ইর মত কাজ খুঁজবে না. কারণ সে চঅত্তি বাওন যে। 
ব্রজলাল সাত সকালে উঠে অন্দরমহল মহিলামহল কে ছেড়ে দিয়ে বাইরে দাওয়ায় এসে একটা পায়া ভাঙ্গা লোহার কেদারায় এসে বসতেন, সর্বত্র রাজ্সম দৃষ্টিতে অবলোকন করছেন।  লেখক এই জায়গায় বলছেন যে চেয়ার টি কবে এই সংসারে এন্ট্রি নিল তা তিনি জানেন না , তবে তার এক্সিট তা তিনি লিখেছেন।  এই চেয়ার টি একটা প্রতীক হয়ে ঢুকেছে এই গল্পে - একটা পায়া ভাঙ্গা অথচ লোহার অচলায়তনের চেয়ার সেটাকে দাঁড় করাতে গেলে বেড়ার দেওয়ালের গায়ে ঠ্যাকা দিয়ে রাখতে হয়, সেই তখতে ই বসেন ব্রজলাল - হেড অফ টি ফেমিলি যে।  এই চেয়ার তার খাস-সিংহাসন।  এখানে বসেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন ছাতায় তাপ্পি দেবার শিল্পী কেরামত মিয়ান কে.
গল্পে চেয়ার যেমন এসেছে অচলায়তন এর প্রতীক হিসেবে , দড়ি আর শাল্বলগা এসেছে ধর্ষিতার মুক্তির সুত্র হিসেবে, হিন্দু উচ্চবংশের নারী ধন ধর্ষিতা হলে তার আর বেঁচে থাকার কোনো অজুদ থাকে না, এই বে-অজুদী জীবন যে শাল্বল্গার থেকে ঝোলা দড়ির   যার শেষ সীমানায় বে-যান লাশ ই থাকতে পারে, তাও একটি নারীর লাশ, হিন্দু সভ্যতা যে এই পরিনতি ই আনে সেটাও গল্পে সুন্দর করে অথচ উপমারোহিত ভাবে এসেছে। এই ধর্ষণ যাতে না হয়, বাবা মাআয়ের মেয়েদের রজস্বলা হলেই বিয়ে দিয়ে খালাস হন, দায় এড়ান , বাকি যারা পরে থাকে তারা যতই না মোসলমানি লব্জ আত্মস্থ করুক না কেন, মচলমানী সংস্কৃতি তে বড় হোক না কেন , নারী দেহ ভোগ্য পণ্য কেউ তা তস্করী পদ্ধতিতে হাসিল করে, করে সেই হাসিল করাকে যুদ্ধ জয় মনে করে, কেউ বা সেই হাসিল করাকে পুরনো অপমানের বদলা হিসেবে দ্যাখায়, আর কেউ অন্যের ভোগ করা "এঁট " নারীদেহ কে খরচের খাতে ফেলে দ্যায়, যেমন bad debt . মানুষ নারী  জীবিত লাশ হয়ে বেঁচে থাকে , কিছুদিন পরে খুদ্কুশি করে. এই পরম্পরা আরো চলতে থাকে, এক এক করে জীবিত মানুষ গুলোকে খায়।  গরীব মানুষ যারা নিজের ঘামের পরিশ্রমে বেঁচে থাকে, তারা কৌমের দুস্ক্রীতির দ্যায় কাঁধে তুলে নিয়ে হয় বেঘোরে প্রাণ দ্যায় বা আর এক নির্দোষের প্রাণ নেয়।  যুদ্ধ উন্মাদনা হচ্ছে অন্যের দায় কে নিজের করে নিয়ে নিজেই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলতে খেলতে অর্থহীন যুদ্ধে নেমে পরা, যার পরে সে নিজেই খুনি ধর্ষক হয়ে পড়ে। 

বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত এই প্রথম প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মত আপাত "সাধু" রূপটির নিচে যে যুদ্ধবাজ নরহন্তারক এর আসল রূপ লুকিয়ে আছে, সেটাকে সবার সামনে হাজির করলেন স্বপ্নময়। একটা যুদ্ধ উন্মাদনা যে প্রতিটি জনপদে মানুষকে হিংস্র হায়না বানিয়ে চারে, আবার পরে এই মানুষ গুলোই হয়ত মানুষ এর পীড়ায় কষ্ট পায়, সেই দ্বৈত ধরা পড়েছে এই গল্পে।.. গল্পের শেষে সেই পায়া ভাঙ্গা লোহার চেয়ার এর exit এর কিসসা পাওয়া গেল, যখন সেটাকে ব্যবহার করা হলো, কেরামত এর
ওপর প্রথম আঘাতে।  আঘাত এলো তারই কাছ থেকে যার রামায়ন ফেরত দিতে এসেছিল কেরামত, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। অচলায়তন জীবন নিতেই জানে, জীবন দেওয়ার কাজে লাগে না।  এটাই বাস্তবতা। 

কেরামত যে কিনা রামায়ন এর কিসসে উল্লসিত হয়, যার কাছে হিন্দুদের ধর্মের আকর্ষণ তাদের কিস্স্যার ভান্ডারে, যে কিনা হনুমানের গন্ধমাদন পর্বত আনয়নে স্বস্তি পায়, যে কিনা সীতার অপহরণের দুক্ষে কান্দে, যে কিনা সীতার উদ্ধারে লাফিয়ে উঠে হাততালি দেয়, সর্বপরি যে কিনা সীতার সঙ্গে নিজের গ্রামের পড়শীর অপহরনে আর খান মেলেডারী র দুস্কর্মে সেই নারীর সঙ্গে সীতা কে relate করে, এ হেন কেরামত যখন ব্রজলালের জ্ঞান্তি  বাঁশ পেটায় প্রাণ হারায় তার শেষ দীর্ঘশ্বাস কিন্তু "আলাহ" র নামেই হয়।  কেরামতের কাছে এছলামের মাহাত্য ছিল যে তাতে দম থেকে আমীর সবাইকে এক কাতারে নামাজ আদা করতে হয়. এই আত্মসম্মান , এই ঘরুর কিন্তু কেরামত কে আল্লাহ র দরবারেই সমাসীন রাখে, তবে তার জন্যে সীতার সঙ্গে নিজেকে রেলাতে করতে অসুবিধেয় পড়তে হয় না।  রামায়নের সীতা এখানে শুধু বাঙালী নারী কুল ই নয় বরং সমগ্র নিপীড়িত বাঙালী প্রলেতারিয়াতের প্রতীক।  তাই সব শেষে যখন ব্রজলাল রামায়ন বইটির মধ্যে  এক গোছা চুল পেলেন, লেখক লিখলেন সেই চুল সীতা বা ফেকু দুর্বাশার বা কেরামতের কিনা সেই প্রশ্ন তা অমিমাংসিতই রয়ে গেল.
নিজের গ্রামের কালিম্মুদ্দিন মন্ডল  কে গ্রামের বাওন এর কাছে জল চল হওয়ার জন্যে কালী মন্ডল বনতে হয়, তার জামাই মুহাম্মদ কেরামুতুল্লাহ কে কেরামত হওয়ার বেশি সম্মান দেওয়া যাবে না , অথছ সেই তুঙ্গী পারার মুজিবর রহমান কে শেয়খ লুত্ফর রহমানের ব্যাটা হিসেবে অভিহিত করে তার সঙ্গে কাল্পনিক পরিচয়ের লালসা কিন্তু ব্রজলাল ছাড়তে পারেন নি, কেরামত তাই জন্যে আবার ব্রজলাল কে সম্মান করেন। কেরামতের কাছে হিন্দুস্তান পাকিস্তানের কোনো ফারাক নেই, কারণ সে গরীব, দুই দেশেই বাবুরা ভালাই আছেন।  গরীবের রুটির খোঁজে বর্ডার নাই।  এ সব emotions আমরা বহু দেখেছি, কিন্তু যেটা অনবদ্য তা হলো এই প্রথম সাহিত্যের পাতায় subaltern এর উচারণ এ শুনলাম আসমানী কিতাব দুর্বোধ্য , ইনসানি কেতাব বোধগম্ম্য।  এই মূল্যবোধ রাখার মত হিম্মত কিন্তু স্বপ্নময় এর লেখনি থেকেই আশা করা যায় এবং পাওয়াও যায়।  কেরামত এখানে  প্রলেতারিয়াত বাংলার  সিতায়নের নায়ক।  কেরামত ইনানী কেতাবের হৃদয় টি কে ধরেছিলেন, ব্রজলাল রামায়ন কে সুকনো ভক্তির বা পরজন্মের insurance এর প্রিমিয়াম হিসেবে দেখেছেন। পরজীবি মধ্যবিত্তের ধর্মাচরণের সঙ্গে প্রলেতারিয়াতের ধর্মাচরণের এটাই ফারাক। এটাও সাহিত্যে বিরল না হলেও খুবই অপ্রতুল। ধর্ম এখানে হৃদয়হীন জগতের হৃদয়বত্তা - এটাই স্বপ্নময়ের অন্তর্লীন আর অন্তর্নিহিত মার্কস বাদ , মার্কস এখানে কতটা ভাস্বর। 

পার্টিশন নিয়ে পাঞ্জাবে অনেক রচনা হয়েছে।  বাংলায় কিছু কিছু হয়েছে, অনেক টা anecdotal , কিন্তু পুরো সমাজ ও তার দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনের একটা চলমান চিত্র কে ক্ষুদ্র গল্পে ধরা মুন্সিয়ানা র দাবি রাখে। স্বপ্নময় সেটা পূর্ণ করেছেন। গল্প তা কিন্তু সত্যি ঘটনা, স্বপ্নময়ের নিজের জীবনের কিনা জানি না , প্রায় প্রতিটি উদ্বাস্তু কলোনির গল্প এটা।  এই সত্যের একটা সময়কাল ছিল , ১৯৬৫ র ভারত-পাক যুদ্ধ। মাত্র ৬ বছর পরেই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ। দুই বাংলার মুক্তিযুদ্ধ। সেই সিঁথি বরানগরেই , এপার বাংলায় বসে যারা অপার বাংলার মুক্তিযুধ্হ কে সমর্থন আর সাহায্য করলো, তারাই নিজের দেশের মুক্তিযুদ্ধ কে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিল, সেটার মূল theater সিঁথি বরানগর।  কি দ্যোতনা।  অপার বাংলার মুক্তিযোধ্হারা এপার বাংলার মুক্তিযুদ্ধ জানতেই পারল না।  এই উদ্বাস্তু কলোনী গুলো জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে গেল , যৌবন পুড়ে চাই, ধর্ষিত আর এই সবের মধ্যে দুই বাংলার প্রলেতারিয়াত নিজে জীবনের লড়াই লড়তে অপরের লড়াই এ নিজেকে মিলিয়ে দিল.... এটাই সিতায়নের যুদ্ধ।  বাংলা এই সিতায়নের মধ্যে দিয়ে গেছে, যাচ্ছে, চলেই চলেছে। এটাই বাংলার রুহ , এটাই বাংলার হৃদয়, যার জিসম জ্বলে পুরে খাক হয় বার বার, বার বার যেখানে সীতারা , তাপসী রা রাধারানিরা , kamduni , কাকদ্বীপ এর ধর্ষিত পথ ধরেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে কিন্তু প্রতিবাদের ঝান্ডা টা হাত থেকে ফেলে দ্যায় নি. প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেমন ব্রজলাল রা থাকবে, যেমন কেরামত রা থাকবে, আবার প্রতিবাদিরাও মাথা তুলবে।... ইটা আমাদের সেই চলমান কিস্স্যা যা কখনো সিতায়ন, কখনো শার্মিলায়ন কখনো নামহীন গোত্রহীন লাখ লড়াকুর মহাভারত।